পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক নদ নদী তালিকা PDF
নমস্কার বন্ধুরা,
আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক নদ-নদীর তালিকা PDF (District Wise Rivers of West Bengal PDF)। পশ্চিমবঙ্গের ভূগোল (Geography of West Bengal) রাজ্য স্তরের যেকোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষার (যেমন— WBCS, WBPSC Clerkship, WBP Constable, Primary TET) জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাজ্যের ভূপ্রকৃতি ও নদ-নদী থেকে প্রতি বছরই প্রচুর প্রশ্ন আসে। কোন জেলার ওপর দিয়ে কোন নদী প্রবাহিত হয়েছে, উত্তরবঙ্গের প্রধান নদী কোনগুলো, কিংবা জোয়ারের জলে পুষ্ট নদী কোন জেলায় দেখা যায়— এই ধরনের প্রশ্নগুলো পরীক্ষার্থীদের প্রায়ই বিভ্রান্ত করে। তাই আপনাদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে রাজ্যের বর্তমান ২৩টি জেলার ওপর ভিত্তি করে এই ১০০% নির্ভুল ও সম্পূর্ণ তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নদ-নদীর ভৌগোলিক শ্রেণিবিভাগ
টেবিলটি পড়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের নদীগুলোর উৎস এবং প্রবাহপথ সম্পর্কে একটু ধারণা রাখা প্রয়োজন। মূলত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এই নদীগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
- উত্তরবঙ্গের নদ-নদী: দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার নদীগুলো মূলত বরফগলা জলে পুষ্ট এবং সারাবছর জল থাকে। যেমন— তিস্তা (পশ্চিমবঙ্গের ত্রাসের নদী), তোর্সা, জলঢাকা, মহানন্দা।
- পশ্চিমাঞ্চলের মালভূমি অঞ্চলের নদী: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার নদীগুলো বৃষ্টির জলে পুষ্ট। গ্রীষ্মকালে এগুলোতে জল প্রায় মজুত থাকে না। যেমন— দামোদর (বাংলার দুঃখ), কংসাবতী, সুবর্ণরেখা, রূপনারায়ণ।
- গঙ্গার শাখা ও উপনদী: মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও হুগলি জেলার প্রধান নদী ব্যবস্থা, যা মূলত ভাগীরথী-হুগলি নদীর ওপর নির্ভরশীল।
- সুন্দরবন অঞ্চলের নদী (জোয়ারের জলে পুষ্ট): দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার নদীগুলো জোয়ার-ভাটার নোনা জলে পুষ্ট। যেমন— মাতলা, বিদ্যাধরী, গোসাবা, রায়মঙ্গল।
নিচের টেবিলে প্রতিটি জেলার নদ-নদীর নাম বিস্তারিত দেওয়া হলো। এছাড়া, অফলাইনে পড়ার জন্য আপনারা এই জিওগ্রাফি নোটটির (Geography Notes) সম্পূর্ণ পিডিএফ ফাইলটি নিচে থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
পশ্চিমবঙ্গের জেলাভিত্তিক নদ-নদী তালিকা (২৩টি জেলা)
পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় কোন নদী অবস্থিত? পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার প্রধান নদ-নদীগুলির মধ্যে উত্তরবঙ্গে তিস্তা, মহানন্দা ও তোর্সা এবং দক্ষিণবঙ্গে গঙ্গা, দামোদর, রূপনারায়ণ ও হুগলি নদী উল্লেখযোগ্য। নিচে প্রতিটি জেলার নাম ও তার প্রধান নদীর একটি সম্পূর্ণ তালিকা ছক আকারে দেওয়া হলো।
| জেলা | নদ-নদী |
|---|---|
| দার্জিলিং | তিস্তা, মহানন্দা, মেচি, বালাসন, রঙ্গিত |
| কালিম্পং | তিস্তা, জলঢাকা, নেওড়া, লিশ, গিস, চেল |
| জলপাইগুড়ি | তিস্তা, জলঢাকা, করতোয়া, করলা, নেওড়া |
| আলিপুরদুয়ার | তোর্সা, রায়ডাক, কালজানি, সংকোষ, মুজনাই |
| কোচবিহার | তিস্তা, তোর্সা, রায়ডাক, কালজানি, জলঢাকা, গদাধর |
| উত্তর দিনাজপুর | মহানন্দা, কুলিক, নাগর, সুধানী, গামারি |
| দক্ষিণ দিনাজপুর | আত্রাই, পুনর্ভবা, টাঙ্গন, যমুনা |
| মালদা | গঙ্গা, মহানন্দা, কালিন্দী, পুনর্ভবা, টাঙ্গন, পাগলা |
| মুর্শিদাবাদ | ভাগীরথী, জলঙ্গী, ভৈরব, দ্বারকা, শিয়ালমারি, বাবলা |
| বীরভূম | ময়ুরাক্ষী, অজয়, কোপাই, বক্রেশ্বর, দ্বারকা, ব্রাহ্মণী, হিংলা |
| পূর্ব বর্ধমান | ভাগীরথী, দামোদর, অজয়, বাঁকা, খড়ি |
| পশ্চিম বর্ধমান | দামোদর, বরাকর, অজয়, নুনিয়া |
| নদীয়া | ভাগীরথী, জলঙ্গী, মাথাভাঙ্গা, চূর্ণী, ইছামতি, ভৈরব |
| উত্তর ২৪ পরগনা | ইছামতি, বিদ্যাধরী, যমুনা, কালিন্দী, রায়মঙ্গল |
| দক্ষিণ ২৪ পরগনা | হুগলি, মাতলা, বিদ্যাধরী, পিয়ালী, সপ্তমুখী, গোসাবা, ঠাকুরান |
| হুগলি | হুগলি, দামোদর, রূপনারায়ণ, দ্বারকেশ্বর, মুণ্ডেশ্বরী, সরস্বতী, কুন্তি, বেহুলা |
| বাঁকুড়া | দামোদর, দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী, গন্ধেশ্বরী, শিলাবতী (শিলাই) |
| পুরুলিয়া | কংসাবতী, কুমারী, সুবর্ণরেখা, দামোদর |
| ঝাড়গ্রাম | সুবর্ণরেখা, কংসাবতী, ডুলুং |
| পশ্চিম মেদিনীপুর | কংসাবতী (কাঁসাই), শিলাবতী (শিলাই), কেলেঘাই |
| পূর্ব মেদিনীপুর | রূপনারায়ণ, হলদি, রসুলপুর, কেলেঘাই |
| হাওড়া | হুগলি, রূপনারায়ণ, দামোদর, সরস্বতী |
| কলকাতা | হুগলি, বিদ্যাধরী |
সম্পূর্ণ নদ-নদীর তালিকাটি পিডিএফ (PDF) ফাইলে দেওয়া রয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এটি সংগ্রহ করে রাখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন (FAQ)
১. পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ও দীর্ঘতম নদী কোনটি?
পশ্চিমবঙ্গের প্রধান এবং দীর্ঘতম নদী হলো গঙ্গা (যা এ রাজ্যে ভাগীরথী-হুগলি নামে পরিচিত)।
২. তিস্তা নদী কোন কোন জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
তিস্তা নদী (ত্রাসের নদী) মূলত পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
৩. দামোদর নদ কোন কোন জেলায় দেখা যায়?
দামোদর নদ (যাকে বাংলার দুঃখ বলা হতো) মূলত পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং হাওড়া জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।