১০ জন শিখ গুরু তালিকা PDF | Ten Sikh Gurus
১০ জন শিখ গুরুর পরিচয় ও অবদান PDF | 10 Sikh Gurus in Bengali
ভূমিকা
Hello Friends,
শিখধর্মে গুরুকেই সমস্ত জ্ঞানের আধার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ভারতে শিখ ধর্মের প্রবর্তক হলেন গুরু নানক। অর্থাৎ তিনিই হলেন এই ধর্মের প্রথম গুরু এবং এনার পরবর্তী সময়ে আরো নয় জন শিখ গুরুর আবির্ভাব ঘটেছিল। সবমিলিয়ে মোট ১০ জন শিখ গুরু ছিলেন, যাদের কাছে এই ধর্মাবলম্বীরা শিক্ষা গ্রহণ করত এবং তাঁদের দেখানো পথকে অনুসরণ করেই জীবনে মোক্ষ লাভ সম্ভব বলে তারা মনে করত।
সরকারি চাকরির পরীক্ষা যেমন- WBCS, SSC, ডব্লিউবিপি (WBP) বা অন্যান্য পরীক্ষাতে শিখ গুরুদের অবদান এবং ইতিহাস থেকে প্রচুর প্রশ্ন আসে। শিখ ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ হলো 'গুরু গ্রন্থ সাহিব', যেটিকেই একাদশ এবং চিরস্থায়ী গুরু হিসাবে মানা হয়।
১০ জন শিখ গুরুর পরিচয় ও অবদান
১. প্রথম শিখগুরু: গুরু নানক (Guru Nanak)
- পিতা: মেহেতা কালু এবং মাতা: তৃপ্তা।
- তিনিই হলেন শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি পাঞ্জাবের তালওয়ান্দি (বর্তমান নানকানা সাহিব, পাকিস্তান) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত ঠিক ৯৭৪টি পবিত্র স্তোত্র বা শ্লোক শিখদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ "গুরু গ্রন্থ সাহিব"-এ সংরক্ষিত রয়েছে।
২. দ্বিতীয় শিখগুরু: অঙ্গদ দেব (Guru Angad Dev)
- তিনি পাঞ্জাবি ভাষার 'গুরুমুখী লিপি' (Gurmukhi Script) আবিষ্কার করেন।
- তিনি নানকের বাণী ও উপদেশসমূহ লিপিবদ্ধ করেন এবং 'লঙ্গর' প্রথাকে আরও প্রসারিত করেন।
৩. তৃতীয় শিখগুরু: অমর দাস (Guru Amar Das)
- তিনি শিখ ধর্মকে ২২টি প্রশাসনিক ভাগে ভাগ করেন, এই ভাগগুলোকে "মঞ্জি" (Manji) বলা হতো।
- তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লঙ্গর ব্যবস্থা চালু করেন।
- সতীদাহ প্রথা ও পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে তিনি কঠোর আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
৪. চতুর্থ শিখগুরু: রামদাস (Guru Ram Das)
- তাঁর বাবা ছিলেন হরি দাস এবং মা অনুপ দেবী (দয়া কৌর)। তিনি লাহোরের চুনা মান্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন গুরু অমর দাসের জামাতা।
- ১৫৭৭ সালে তিনি পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে পবিত্র 'অমৃত সরোবর' খনন করেন (আকবর তাঁকে এই জমি দান করেছিলেন)।
৫. পঞ্চম শিখগুরু: অর্জন দেব (Guru Arjan Dev)
- পিতা: গুরু রামদাস এবং মাতা: ভানি। এই সময় থেকে গুরুপদ বংশানুক্রমিক হয়।
- তিনি ১৬০৪ সালে শিখদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ 'আদি গ্রন্থ' (আদি গুরু গ্রন্থ সাহিব) রচনা ও সংকলন করেছিলেন।
- তিনি অমৃতসরের পবিত্র সরোবরের মাঝখানে 'দরবার সাহিব' বা 'হরিমন্দির সাহিব' (স্বর্ণমন্দির) নির্মাণ করেন। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন মুসলিম সুফি সন্ত মিয়া মীর।
- তিনি 'দসভন্দ' (আয়ের এক-দশমাংশ দান) প্রথা চালু করেন এবং 'মসন্দ' নামে একটি প্রতিনিধি দল গঠন করেন।
- বিদ্রোহী রাজপুত্র খসরুকে সাহায্যের অভিযোগে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রাণদণ্ড দেন (প্রথম শিখ শহীদ)।
৬. ষষ্ঠ শিখগুরু: হরগোবিন্দ (Guru Hargobind)
- পিতা: গুরু অর্জন দেব এবং মাতা: গঙ্গা। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর দ্বারা পিতার মৃত্যুদণ্ড হবার পর মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি গুরুপদ লাভ করেন।
- তিনি শিখদের সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী করেন এবং আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে 'মীরি' (Miri) ও 'পীরি' (Piri) নামক দুটি তলোয়ার ধারণ প্রথা চালু করেন।
- তিনি "সাচ্চা বাদশাহ" উপাধি গ্রহণ করেন এবং অমৃতসরে "অকাল তখত" (Akal Takht - ঈশ্বরের সিংহাসন) নির্মাণ করেন।
৭. সপ্তম শিখগুরু: হর রায় (Guru Har Rai)
- তিনি একজন শান্তিকামী গুরু ছিলেন, তবে তাঁর একটি বিশাল সামরিক বাহিনী ছিল।
- শাহজাহানের পুত্র দারা শিকোহ-কে চিকিৎসার কাজে সাহায্য করার কারণে আওরঙ্গজেবের সাথে তাঁর সংঘাত শুরু হয়।
৮. অষ্টম শিখগুরু: হরকিষন (Guru Har Krishan)
- তিনি মাত্র ৫ বছর বয়সে গুরুপদ লাভ করেন, তাই তাঁকে "বাল গুরু" বলা হয়।
- দিল্লিতে মহামারী চলাকালীন মানুষের সেবা করতে গিয়ে তিনি বসন্ত রোগে (Smallpox) আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৮ বছর বয়সে মারা যান।
৯. নবম শিখগুরু: তেগবাহাদুর (Guru Tegh Bahadur)
- তিনি 'আনন্দপুর সাহিব' শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন।
- ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করায় মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে দিল্লির চাঁদনি চকে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ করে হত্যার আদেশ দেন (১৬৭৫)।
১০. দশম শিখগুরু: গোবিন্দ সিং (Guru Gobind Singh)
- তিনি বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন শিখ জাতির শ্রেষ্ঠ নেতা, যোদ্ধা, কবি ও দার্শনিক।
- ১৬৯৯ সালে তিনি "খালসা" (Khalsa) বাহিনী গঠন করে শিখদের একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক জাতিতে পরিণত করেন।
- তিনি শিখদের জন্য পাঁচটি 'ক' (5 Ks) ধারণ করা বাধ্যতামূলক করেন— কেশ (চুল), কঙ্ঘা (চিরুনি), কড়া (লোহার চুড়ি), কচ্ছেরা (অন্তর্বাস), এবং কৃপাণ (তলোয়ার)।
- "অমৃত পহুল" বা বাপ্তিস্ম পদ্ধতির প্রচলন করেন। পুরুষদের নামের শেষে 'সিং' (সিংহ) এবং মহিলাদের নামের শেষে 'কৌর' (রাজকুমারী) যুক্ত করার নির্দেশ দেন।
- ১৭০৮ সালের ৭ অক্টোবর তিনি মারা যাওয়ার আগে শিখধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ 'গুরু গ্রন্থ সাহিব'-কে শিখদের পরবর্তী এবং চিরস্থায়ী গুরু হিসেবে ঘোষণা করেন, যার ফলে মানব গুরু প্রথার অবসান ঘটে।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
- শিখ ধর্মে মোট কতজন শিখ গুরু ছিলেন?
- শিখ ধর্মে মোট ১০ জন শিখ গুরু ছিলেন। প্রথম গুরু ছিলেন গুরু নানক এবং দশম গুরু ছিলেন গুরু গোবিন্দ সিং।
- খালসা প্রথা কে প্রবর্তন করেন?
- ১৬৯৯ সালে দশম শিখগুরু গুরু গোবিন্দ সিং খালসা (Khalsa) প্রথা প্রবর্তন করেন এবং শিখদের একটি সামরিক জাতিতে পরিণত করেন।
- দশজন শিখ গুরুর নাম কী কী?
- গুরু নানক, গুরু অঙ্গদ দেব, গুরু অমর দাস, গুরু রামদাস, গুরু অর্জন দেব, গুরু হরগোবিন্দ, গুরু হর রায়, গুরু হরকিষন, গুরু তেগবাহাদুর এবং গুরু গোবিন্দ সিং।
- তেগবাহাদুর কততম শিখগুরু ছিলেন?
- গুরু তেগবাহাদুর ছিলেন নবম (৯ম) শিখগুরু, যাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করার কারণে আওরঙ্গজেবের নির্দেশে হত্যা করা হয়েছিল।